এখনো পাখিরা উঠেনি জাগিয়া, শিশির রয়েছে ঘুমে, কলঙ্কী চাঁদ পশ্চিমে হেলি কৌমুদী-লতা চুমে। তুমি ভাই সেই ব্রজের রাখাল, পাতার মুকুট পরি, তোমাদের রাজা আজো নাকি খেলে গেঁয়ো মাঠখানি ভরি। বিহগ ছাড়িয়া ভোরের ভজন আহারের সন্ধ্যানে, বাতাসে বাঁধিয়া পাখা-সেতু-বাঁধ ছুটিবে সুদুর-পানে। সখালী পাতাও সখাদের সাথে, বিনামূলে দাও প্রাণ, এপারে মোদের মথুরার মত নাই দান-প্রতিদান। তুমি যে কিশোর তোমার দেশেতে হিসাব নিকাশ নাই, যে আসে নিকটে তাহারেই লও আপন বলিয়া তাই।
কালিন্দী লতা গলায় জড়ায়ে সোনার গোকুল কাঁদে ব্রজের দুলাল বাঁধা নাহি পড়ে যেন মথুরার ফাঁদে। হেথা যৌবন মেলিয়া ধরিয়া জমা-খরচের খাতা, লাভ লেকাসান নিতেছে বুঝিয়া খুলিয়া পাতায় পাতা। হায়রে করুণ হায়, এখনি যে সবে জাগিয়া উঠিবে প্রভাতের কিনারায়। হায়রে করুণ হায়, এখনি যে সবে জাগিয়া উঠিবে প্রভাতের কিনারায়। হয়ত তাহারি অলকে বাঁধিতে মাঠের কুসুম ফুল, কতদূর পথ ঘুরিয়া মরিছ কত পথ করি ভুল।
শূন্য হাওয়ার শূন্য ভরিতে বুকখানি করি শুনো, ফুলের দেউল হবে না উজাড় আজিকে প্রভাতে পুন। হয়ত তাহারি অলকে বাঁধিতে মাঠের কুসুম ফুল, কতদূর পথ ঘুরিয়া মরিছ কত পথ করি ভুল। তরুণ কিশোর! তোমার জীবনে সবে এ ভোরের বেলা, ভোরের বাতাস ভোরের কুসুমে জুড়েছে রঙের খেলা। হয়ত তাহারি অলকে বাঁধিতে মাঠের কুসুম ফুল, কতদূর পথ ঘুরিয়া মরিছ কত পথ করি ভুল। হেথা যৌবন যত কিছু এর খাতায় লিখিয়া লয়, পান হতে চুন খসেনাক-এমনি হিসাবময়।
শূন্য হাওয়ার শূন্য ভরিতে বুকখানি করি শুনো, ফুলের দেউল হবে না উজাড় আজিকে প্রভাতে পুন। রঙের কুহেলী তলে, তোমার জীবন ঊষার আকাশে শিশু রবি সম জ্বলে। হেথা যৌবন মেলিয়া ধরিয়া জমা-খরচের খাতা, লাভ লেকাসান নিতেছে বুঝিয়া খুলিয়া পাতায় পাতা। তরুণ কিশোর! তোমার জীবনে সবে এ ভোরের বেলা, ভোরের বাতাস ভোরের কুসুমে জুড়েছে রঙের খেলা। হেথা যৌবন যত কিছু এর খাতায় লিখিয়া লয়, পান হতে চুন খসেনাক-এমনি হিসাবময়।
হেথা যৌবন মেলিয়া ধরিয়া জমা-খরচের খাতা, লাভ লেকাসান নিতেছে বুঝিয়া খুলিয়া পাতায় পাতা। তুমিও হয়ত জান না কিশোর, সেই কিশোরীর লাগি, মনে মনে কত দেউল গেঁথেছে কত না রজনী জাগি। তুমি যে কিশোর তোমার দেশেতে হিসাব নিকাশ নাই, যে আসে নিকটে তাহারেই লও আপন বলিয়া তাই। মাধবীলতার দোলনা বাঁধিয়া কদম্ব-শাখে শাখে, কিশোর! তোমার কিশোর সখারা তোমারে যে ওই ডাকে। এখন হইবে লোক জানাজানি, মুখ চেনাচেনি আর, হিসাব নিকাশ হইবে এখন কতটুকু আছে কার।