কালিন্দী লতা গলায় জড়ায়ে সোনার গোকুল কাঁদে ব্রজের দুলাল বাঁধা নাহি পড়ে যেন মথুরার ফাঁদে

তোমাদের প্রেম নিকষিত হেম কামনা নাহিক তায় যুগে যুগে কবি গড়িয়াছে ছবি কত ব্রজের গাঁয়! মাধবীলতার দোলনা বাঁধিয়া কদম্ব-শাখে শাখে, কিশোর! তোমার কিশোর সখারা তোমারে যে ওই ডাকে। তুমি যে কিশোর তোমার দেশেতে হিসাব নিকাশ নাই, যে আসে নিকটে তাহারেই লও আপন বলিয়া তাই। তোমার গোকুল আজো শেখে নাই ভালবাসা বলে কারে, ভালবেসে তাই বুকে বেঁধে লয় আদরিয়া যারে তারে। মোদের মথুরা টরমল করে পাপ-লালসার ভারে, ভোগের সমিধ জ্বালিয়া আমরা পুড়িতেছি বারে বারে।

হেথা যৌবন যত কিছু এর খাতায় লিখিয়া লয়, পান হতে চুন খসেনাক-এমনি হিসাবময়। বঁধুর কোলেতে বধুয়া ঘুমায়, খোলেনি বাহুর বাঁধ, দীঘির জলেতে নাহিয়া নাহিয়া মেটেনি তারার সাধ। তুমি যে কিশোর তোমার দেশেতে হিসাব নিকাশ নাই, যে আসে নিকটে তাহারেই লও আপন বলিয়া তাই। এখনো পাখিরা উঠেনি জাগিয়া, শিশির রয়েছে ঘুমে, কলঙ্কী চাঁদ পশ্চিমে হেলি কৌমুদী-লতা চুমে। তোমাদের সেই ব্রজের ধূলায় প্রেমের বেলাতি হয়, সেথা কেউ তার মূল্য জানে না, এই বড় বিস্ময়।

এখনো আসেনি অলি, মধুর লোভেতে কোমল কুসুম দুপায়েতে দলি দলি। তোমার গোকুল আজো শেখে নাই ভালবাসা বলে কারে, ভালবেসে তাই বুকে বেঁধে লয় আদরিয়া যারে তারে। আজিও চেননি সোনার আদর, চেননি মুক্তাহার, হাসি মুখে তাই সোনা ঝরে পড়ে তোমাদের যারতার। এখনো আসেনি অলি, মধুর লোভেতে কোমল কুসুম দুপায়েতে দলি দলি। হায়রে করুণ হায়, এখনি যে সবে জাগিয়া উঠিবে প্রভাতের কিনারায়।

তুমি ভাই সেই ব্রজের রাখাল, পাতার মুকুট পরি, তোমাদের রাজা আজো নাকি খেলে গেঁয়ো মাঠখানি ভরি। তোমাদের প্রেম নিকষিত হেম কামনা নাহিক তায় যুগে যুগে কবি গড়িয়াছে ছবি কত ব্রজের গাঁয়! কে এলে তবে ভাই, সোনার গোকুল আঁধার করিয়া এই মথুরার ঠাই। তোমার গোকুল আজো শেখে নাই ভালবাসা বলে কারে, ভালবেসে তাই বুকে বেঁধে লয় আদরিয়া যারে তারে। ওপারে কিশোর, এপারে যুবক, রাজার দেউল বাড়ি, পাষাণের দেশে কেন এলে ভাই। রাখালের দেশ ছাড়ি?

সবগুলি নিউজ দেখুন